‘বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহ পাকের নামে শুরু করছি।’
সৃষ্টিকর্তা তাঁর সৃষ্ট জীবের কাছে যেটা আশা করেন সেটা হলো তাঁর ইবাদত। আর সৃষ্টির সেরা জীব মানুষ মাত্রই যখন তাদের সকল দায়িত্ব ও কর্ম সঠিক পদ্ধতিতে পালন করে। শৃঙ্খলাবদ্ধ ও আত্মার পরিপূর্ণ সমন্বয় ঘটিয়ে যখন প্রভুর প্রেমে নিমগ্ন হয়। যেখানে কিনা নিজের মনগড়া জীবনাচরণ বা কৃত্রিমতা থাকে না। সেই সব কার্যকারণগুলোকেই আমরা মানুষ কর্তৃক স্রষ্টার ইবাদত হিসেবে জানি।
এই ইবাদত বিষয়ে বলা আছে, নিজের জন্য ইবাদতটুকু নিজেকেই করতে হবে। অন্য কোনো জ্ঞানী ব্যক্তি বা অনুসরণীয় ব্যক্তিবর্গ আমাদের পথ চলতে সাহায্য করতে পারেন মাত্র। কিন্তু নিজের বুঝটুকু নিজেকেই বুঝে নিতে হবে। কারণ ১০৪টি ঐশ্বরিক গ্রন্থের মাঝে সর্বশেষ গ্রন্থ আল-কুরআনের অন্যতম একটা আয়াত আছে। যার উপলব্ধিগত অর্থ দাঁড়ায় এমন যে, কারও পাপের ভার অন্য কারও উপর দেওয়া হবে না এবং নিজ পুণ্যের ফল সেই ভোগ করবে।
এই আয়াতটি নাজিলের পর পরই আমাদের শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) সাথে সাথে সাফা পর্বতে আরোহন করেন এবং তিন ব্যক্তির নাম ধরে বলেন (এই তিনজনের নামের মাঝে উনার সর্বকনিষ্ঠ কন্যা ফাতিমা (রাঃ) এর নামও ছিল।) তোমাদের জাহান্নামে যাবার বিষয়ে আমি মুহাম্মদ কোনোভাবেই বিরত করতে পারব না। তাই সাবধান হও। অর্থাৎ এখানে স্পষ্টভাবে নিজ পরিবার, আত্মীয় পরিজন, সাহাবি ও উম্মতগণসহ সবাইকে কুরআনের আয়াতের মাধ্যমে রাসুল (সাঃ) সবার নিজ নিজ দায়িত্ব পালন ও ইবাদতের বিষয়ে সতর্ক করে দিলেন।
এই বইটিতে কুরআনের আয়াতগুলো বা ঘটনা সরাসরি আমি বর্ণনা করি নি। যেটা বলেছি সেটা হলো অনুধাবন ও উপলব্ধি। বেশ অনেক বছর আগে একটা ঘটনা বলি, একবার রোজার মাস আসবার আগে দিয়ে আমি আমার আম্মাকে বলেছিলাম। বাচ্চাকাচ্চা, সংসার, চাকরি এইসবের চাপে কুরআন খতম দেওয়া হয় না। এই রোজার মাসে একবার খতম দিব বলে নিয়ত করেছি। আম্মা বললেন, ‘নাহ! কুরআন কয়েকবার আরবিতে পড়া হয়েছে তোমার। কি লাভ যদি আয়াতগুলোর অর্থই নাই বুঝো? তার চেয়ে বরং মৃত্যুর আগে নিয়ত করো একবার হলেও বুঝে কুরআনের অর্থ পড়বে এবং সেটা জীবন যাপনে কাজে লাগানোর চেষ্টা করবে। এর মাঝে তোমার মৃত্যু হলেও নিয়তই বরকত হবে ইনশাআল্লাহ।
সব থেকে জরুরি বিষয় হলো কিছু কথা অনুধাবন করা বেশ সহজ কিন্তু উপলব্ধিতে আসতে বহুদিন লেগে যায়। সম্ভবত কেউ একজন আমাদের এগিয়ে দিবে। এরপর আত্মা ও দেহের সমন্বয় ঘটিয়ে নিজেদের বিশুদ্ধ পথ খুঁজতে হবে। এরপর অসীম ধৈর্য নিয়ে চলবে আমাদের বাহ্যিক ও আত্মিক ইবাদত ও ধ্যান। যার মাধ্যমে আমরা স্রষ্টার কাছাকাছি যাবার পথের যে মানচিত্র, সেটা পেয়ে যাবো ইনশাআল্লাহ। সর্বশেষে সেই নকশা ধরে কিছুটা আঁকাবাঁকা বন্ধুর ও খানিক মসৃণ পথ নিজেরই অতিক্রম করতে হবে।
লাজ্বাতুল কাওনাইন,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে গভার্নেন্স স্টাডিজে মাস্টার্স করেন। এবং দীর্ঘদিন যাবত শিক্ষকতা পেশায় জড়িয়ে আছেন। গল্প,উপন্যাস ও প্রবন্ধধর্মী লেখালিখিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। ধর্ম, দর্শন, ইতিহাস ও সামাজিক বিষয়বস্তু নিয়ে তার পাঠ ও আগ্রহের জায়গাটা চিরস্থায়ী।