ঘরকুনো বাঙালিকে ঘর হতে বাইরে দুই পা ফেলিবার আহবান কবিগুরু সেই কবেই জানিয়েছেন। সুখের বিষয়, বাংলাদেশীরা ইদানিং সেই অপবাদ ঘুচানোর জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো বিশেষ করে থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর এবং ভিয়েতনাম হয়ে উঠেছে সকলের পছন্দের গন্তব্য। সবুজ পাহাড়, শুভ্র বালির সৈকত, গহীন অরণ্য, খরস্রোতা নদী, বাধাহীন জলপ্রপাত, নীলকান্ত মনি কিংবা পান্না সবুজ জলের সমুদ্র সৌন্দর্যের পসরা সাজিয়ে অপেক্ষায় আছে প্রকৃতি প্রেমীদের জন্য। আরও আছে পাহাড়ি গুহা, বিস্ময়কর উপাসনালয় আর নজরকাড়া সব ভাস্কর্য। এইসব কাঠামো এবং উপাসনালয়গুলো প্রকৃতির সাথে সুরেলাভাবে মিশ্রিত হয়। দেয়াল ঘেঁষে লতার মত বেড়ে উঠা প্যাঁচানো গুল্ম থেকে যখন ফোঁটায় ফোঁটায় পানি ঝরে পড়ে; কাঠগোলাপের গুচ্ছ যখন পাথুরে পথে তাদের অস্তিত্বের জানান দেয়; প্যাগোডাগুলোর অলংকৃত ছাদ যখন গ্রীষ্মমন্ডলীয় রোদে ঝলমল করে, তখন এমন এক দৃশ্যের অবতারণা ঘটে যা কি না সহজেই কল্পনাগুলোকে বিমূর্ত করে দিতে পারে। যারা ইতিহাস পছন্দ করেন তাঁদের জন্য আছে শতাব্দী প্রাচীন রাজপ্রাসাদ, প্রত্নতাত্ত্বিক সংগ্রহে ঋদ্ধ জাদুঘর আর ঔপনিবেশিক আমলের বিভিন্ন স্থাপনা। ব্যংককের গ্র্যান্ড প্যালেস কিংবা সাইগনের অপেরা ভবন আমাদের অতীতে নিয়ে যায়। তবে সবথেকে বড় সৌন্দর্য এখানকার জনগণের জীবনচারিতায়। হা লং উপাসাগরের বুকে ভেসে বেড়ানো ছোট্ট নৌকায়, সিঙ্গাপুরের মোস্তফা মার্কেটের সরু গলিতে, হ্যানয়ের ওল্ড কোয়ার্টারের অন্ধকার স্যুভেনিরের দোকানে কিংবা ব্যাংককের স্ট্রিট ফুডের আড্ডায় দেখা মিলবে হাজারো মানুষের। এই মানুষগুলোর সাথে মিথস্ক্রিয়া আমাদের সামনে খুলে দেয় হাজারো সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্রের দ্বার। বৈশ্বিক নাগরিক হওয়ার পথে আমাদের যেই যাত্রা, এক ধাপ এগিয়ে সেই যাত্রাপথকে করে তুলে আরও মসৃণ।