মুহম্মদ আবদুল জলিল-এর জন্ম ১৯৪৮ সালের ৬ জুন সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার অন্তর্গত হলদিঘর গ্রামে। পিতা- আলহাজ্ব আহমদ আলী; মাতা- জেলেমুন নেসা। শিক্ষা মাধ্যমিক-১৯৬৩: উচ্চ মাধ্যমিক-১৯৬৫: বি.এ. অনার্স (বাংলা), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়-১৯৬৮: এম.এ. (বাংলা ভাষা ও সাহিত্য), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়-১৯৬৯: পিএইচ.ডি., কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়-১৯৮৬।
পেশাগত জীবনে প্রথমত জাতির মননের প্রতীক বাংলা একাডেমিতে অতঃপর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা জীবনে ফোকলোর, বাংলা, নাট্যকলা ও সঙ্গীত বিভাগের মতো বিখ্যাত তিনটি বিভাগের সভাপতির দায়িত্বেও অধিষ্ঠিত ছিলেন। বিগত আট বছর যাবত তিনি নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপ-উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করে চলেছেন।
ড. মুহম্মদ আবদুল জলিল মূলত একজন নিষ্ঠাবান গবেষক। তাঁর গবেষণার ক্ষেত্র- বাংলা সাহিত্য, ইতিহাস, নৃতত্ত্ব, ফোকলোর এবং বাংলার প্রত্নতত্ত্বের মতো জটিল বিষয়। প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁর সফল বিচরণ। তাঁর উল্লেখযোগ্য গবেষণাগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে হিন্দু-মুসলিম সম্পর্ক (১৯৮৩), মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে বাংলা ও বাঙালি সমাজ (১৯৮৬), বাংলাদেশের সাঁওতাল: সমাজ ও সংস্কৃতি (১৯৮৮), উত্তরবঙ্গের আদিবাসী লোকজীবন ও লোকসাহিত্য ওরাওঁ (১৯৯৯), বাংলাদেশের ফোকলোর চর্চার ইতিহাস (২০০৮), লোকবিজ্ঞান ও লোকপ্রযুক্তি (২০০৬), রাজশাহী অঞ্চলের মৃৎশিল্প: সখের হাঁড়ি (২০০৬), লোকসাহিত্যের নানাদিক (১৯৯৩), বাংলাদেশের উত্তর অঞ্চলের মেয়েলী গীত (১৯৯৩), লোকসংস্কৃতির নান্য প্রসঙ্গ (১৯৯৫), লোকচিকিৎসায় তন্ত্রমন্ত্র (২০০১), উত্তরবঙ্গের লোকসঙ্গীত (২০০১), লোকসংস্কৃতির অঙ্গনে (২০০২), বাংলার লোকায়াত সংস্কৃতি (২০১২), বাংলার লোকসংস্কৃতি লালন রবীন্দ্র (২০১৩), রংপুর অঞ্চলের লোকছড়া (২০১৩), লালনের মনের কথা (২০১৯), জাতির পিতাকে শ্রদ্ধাঞ্জলি (২০২১), অন্তরঙ্গ আলোকে বঙ্গবন্ধু (২০২১), আমার প্রিয় শিক্ষক ড. মযহারুল ইসলাম (২০২১), হলদিঘরের ইতিহাস (২০২২), লোকসংস্কৃতির বিচিত্র ভুবনে (২০২৩), ইতিহাস স্মৃতি ও সান্নিধ্য (২০২৩), 'শাহজাদপুর অঞ্চলের লোকগান: ধুয়া' (২০২৫) প্রভৃতি।