সারসংক্ষেপ আল্লাহর ইচ্ছা, অনুমতি, মনে মোহর মেরে দেওয়া কথাগুলো কুরআন ও হাদীসে বিভিন্নভাবে অসংখ্যবার এসেছে। কথাগুলোর চালু হওয়া অসতর্ক ব্যাখ্যা হলো- মহাবিশ্বের সকল ঘটনা-দুর্ঘটনা সংঘটিত হয় আল্লাহর (সৃষ্টিকর্তার) তাৎক্ষণিক ইচ্ছা, অনুমতি বা তাৎক্ষণিকভাবে ব্যক্তির মনে মোহর মেরে দেওয়ার কারণে। কথাগুলোর অসতর্ক ব্যাখ্যা মুসলিম ও অমুসলিম সমাজের প্রায় সকলেই জানে ও বিশ্বাস করে। আল্লাহর ইচ্ছা কথাটির অসতর্ক ব্যাখ্যার আলোকে রচিত আমাদের দেশের জনপ্রিয় গানের একটি কলি হলো ‘যেমনি নাচাও তেমনি নাচি পুতুলের কী দোষ’। এখান থেকে বোঝা যায়, অসতর্ক এ ব্যাখ্যাটির খারাপ দিকের একটি হলো- দুষ্ট লোকদের খারাপ কাজ করার যুক্তি হাতে তুলে দেওয়া। অথচ কুরআন ও সুন্নাহ বিভিন্নভাবে জানিয়েছে ইসলাম মানুষকে সৎ বানাতে চায়। অন্যদিকে বলা হয়, ‘কিছুর থেকে কিছু হয় না আল্লাহর ইচ্ছায় সবকিছু হয়’। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় কার্য সম্পাদনে মানুষের ইচ্ছা ও কর্মপ্রচেষ্টার বিরাট ভূমিকা আছে এবং কুরআন-সুন্নাহর অনেক বক্তব্যের মাধ্যমেও কথাটির সত্যতার প্রমাণ পাওয়া যায়। তাই আল্লাহর ইচ্ছা, অনুমতি, মনে মোহর মেরে দেওয়া কথাগুলোর প্রকৃত ব্যাখ্যা উন্মোচিত করা মুসলিম জাতি ও বিশ্বমানবতার জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। পুস্তিকাটিতে আল্লাহর ইচ্ছা, অনুমতি, মনে মোহর মেরে দেওয়া কথাগুলোর প্রকৃত ব্যাখ্যা কী হবে তা কুরআন, হাদীস ও Common sense-এর তথ্যের ভিত্তিতে পর্যালোচনা করা হয়েছে। এ পর্যালোচনায় চূড়ান্তভাবে বের হয়ে আসা তথ্য হলো- মানুষের বিভিন্ন কর্ম সম্পাদনের ক্ষেত্রে আল্লাহর ইচ্ছা, অনুমতি, মোহর মেরে দেওয়া কথাগুলো দুই ধরনের। তাৎক্ষণিক ও অতাৎক্ষণিক। তাৎক্ষণিক ইচ্ছা, অনুমতি, মোহর মেরে দেওয়া সংঘটিত হয় কার্য সম্পাদনের সময়। আর অতাৎক্ষণিক ইচ্ছা, অনুমতি, মোহর মেরে দেওয়া সংঘটিত হয় ব্যক্তির কর্ম সম্পাদনের পূর্বে তৈরি করে রাখা প্রোগ্রামের (বিধি-বিধান, নিয়ম-কানুন বা প্রাকৃতিক আইন) মাধ্যমে। কুরআনের প্রায় সব স্থানে ইচ্ছা, অনুমতি, মোহর মেরে দেওয়া কথাগুলো দিয়ে আল্লাহর অতাৎক্ষণিক ইচ্ছা, অনুমতি, মোহর মেরে দেওয়া তথা আল্লাহর তৈরি প্রোগ্রামের মাধ্যমে ইচ্ছা, অনুমতি, মোহর মেরে দেওয়াকে বুঝানো হয়েছে। আর প্রায় সব কার্য সম্পাদন হয় মানুষের তাৎক্ষণিক ইচ্ছা ও কর্মপ্রচেষ্টা এবং আল্লাহর অতাৎক্ষণিক ইচ্ছা, অনুমতি, মোহর মেরে দেওয়ার সমন্বয়ে।
Title
গবেষণা সিরিজ - ২৪ : আল্লাহর ইচ্ছা, অনুমতি, মনে মোহর মেরে দেওয়া কথাগুলোর প্রচলিত ও প্রকৃত ব্যাখ্যা
প্রফেসর ডা. মো. মতিয়ার রহমানের জন্ম বাংলাদেশের খুলনা জেলার ডুমুরিয়া খানার আরজি-ডুমুরিয়া গ্রামের এক ধার্মিক পরিবারে। নিজ গ্রামের মাদ্রাসায় তাঁর শিক্ষা জীবন আরম্ভ। ছয় বছর মাদ্রাসায় পড়ার পর তাঁকে ডুমুরিয়া হাইস্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি করা হয়। ১৯৬৮ ও ১৯৭০ সালে তিনি যথাক্রমে ডুমুরিয়া হাইস্কুল ও সরকারী বি.এল কলেজ, দৌলতপুর, খুলনা থেকে কৃতিত্বের সাথে এস.এস.সি এবং এইচ.এস.সি পাস করেন। এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে ১৯৭৭ সালে MBBS পাস করেন। দ্বিতীয় ও ফাইনাল প্রফেশনাল MBBS পরীক্ষায় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যথাক্রমে ৬ষ্ঠ ও ১০ম স্থান অধিকার করেন।
MBBS পাস করে তিনি সরকারি চাকুরীতে যোগ দেন এবং ১৯৭৯ সালে ইরাক সরকারের চাকুরী নিয়ে সেদেশে চলে যান। ৪ বছর ইরাকের জেনারেল হাসপাতালে সার্জারি বিভাগে চাকুরী করার পর তিনি উচ্চ শিক্ষার জন্য ইংল্যান্ডে যান এবং ১৯৮৬ সালে গ্লাসগো রয়েল কলেজ অফ ফিজিশিয়ান্স এন্ড সার্জনস থেকে জেনারেল সার্জারিতে FRCS ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৮৭ সালে বাংলাদেশে ফিরে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে কনসালট্যান্ট হিসেবে যোগদান করেন। সর্বশেষ তিনি ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্রফেসর এবং সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন।। তিনি ল্যাপারোসকোপ (Laparoscope) যন্ত্র দিয়ে একক হাতে (Single handed) পিত্তথলির পাথর (Gall Bladder Stone) অপারেশনে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি অভিজ্ঞ সার্জন (Surgeon)।
প্রফেসর ডা. মো. মতিয়ার রহমান চিকিৎসক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের পাশাপাশি দীর্ঘ দুই দশক ধরে কুরআন গবেষক হিসেবে ব্যাপক ও মৌলিক কাজ করে আসছেন। তাঁর গবেষণার বিষয় হলো- ইসলামের সে সকল মূল বিষয়, যা সম্পর্কে কুরআন ও হাদীসের বক্তব্য এবং বর্তমান বিশ্বের মুসলিমদের জ্ঞান ও আমলের মধ্যে ব্যাপক পার্থক্য বিদ্যমান। ইতোমধ্যে তাঁর লেখা ৪৩টি গবেষণাধর্মী পুস্তিকা প্রকাশিত হয়েছে। এসব পুস্তিকায় তিনি মুসলিম সমাজে প্রচলিত জ্ঞানগত ভুল ধারণার সংস্কার করে কুরআন, সুন্নাহ ও Common sense-এর আলোকে ইসলামের সঠিক তথ্য তুলে ধরেছেন। তাঁর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাজ হলো 'আল কুরআন যুগের জ্ঞানের আলোকে অনুবাদ' এবং 'সনদ ও মতন সহীহ হাদীস সংকলন'। এ দুটির সম্পাদনা পরিষদের নেতৃত্ব তিনি দিয়েছেন। এ ধরনের কুরআনের অনুবাদ ও হাদীস সংকলন পৃথিবীতে এ দুটোই প্রথম।