১০% ইনস্ট্যান্ট ক্যাশব্যাক পুরো জানুয়ারি মাসজুড়ে বই ও পণ্যে বিকাশে মাত্র ৬০০৳+ পেমেন্টে সর্বোচ্চ ১০০৳ পর্যন্ত! পুরো ক্যাম্পেইনে ক্যাশব্যাক পাবেন ১৫০৳ পর্যন্ত!*
আরো দেখুন
১০% ইনস্ট্যান্ট ক্যাশব্যাক পুরো জানুয়ারি মাসজুড়ে বই ও পণ্যে বিকাশে মাত্র ৬০০৳+ পেমেন্টে সর্বোচ্চ ১০০৳ পর্যন্ত! পুরো ক্যাম্পেইনে ক্যাশব্যাক পাবেন ১৫০৳ পর্যন্ত!*
অনলাইন বাণিজ্য মেলায় আপনার পছন্দের পণ্যে ৭৫% পর্যন্ত ছাড়! বছরের শুরুতেই সেরা ডিল, রকমারি অনলাইন বাণিজ্য মেলা, ২০২৬
বইটি বিদেশি প্রকাশনী বা সাপ্লাইয়ারের নিকট থেকে সংগ্রহ করে আনতে আমাদের ৩০ থেকে ৪০ কর্মদিবস সময় লেগে যেতে পারে।
মারা গেলেন । একেবারে দুম করে । বন্ধুগন, বলে মাইকের দিকে হাত বাড়ালেন । এই ধরনের বক্তৃতা দেবার আগে যেমন বাড়ান । বেশ একটু জোর পাওয়া যায় । মনে হয় জনগণের কণ্ঠ চেপে ধরেছি। বকের গলার মত । কথার ছুরি চলবে ফ্যাঁস ফোঁস, এপাশে ওপাশে। শেষে জনগণ একেবারে লটকে পড়বে । পরনে ফর্সা ধবধবে ধূতি, পাঞ্জাবি । চোখে মুখে জনহিতব্রতের মেকআপ । বন্ধুগণ, বলে মাইকের টুটি চেপে ধরলেন । তারপর আর কোনো কথা শোনা গেল না । ভস্ ভস্ করে অদ্ভুত এক ধরনের শব্দ হল । তিনি ধীরে ধীরে হাঁটু ভেঙে ডায়াসে পড়ে গেলেন । চারপাশ থেকে সকলে ছুটে এলেন। বড় কর্মী, ছোট কর্মী । পতাকাবাহীর দল । ফুলদানি উলটে গেল । দু একটা চেয়ার মঞ্চ থেকে গড়িয়ে নিচে পড়ে গেল । বিশাল জনসমুদ্র, কি হোলো, কি হোলো, বলে ঢেউয়ের মত তরঙ্গায়িত হয়ে উঠল । শোক মিশ্রিত ভারি গলায় জনৈক মধ্যমাপের নেতা বললেন, আমরা দুঃখিত । ইনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। আপনারা ধীরে ধীরে সভাস্থল ত্যাগ করুন । অসুস্থ নয় । তিনি মারা গেছেন । ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাক । কী অসহায় চিত্ৰ ? যিনি এতকাল জনগণকে বয়ে বেড়াচ্ছিলেন, তিনি জনগণের হাতে চেপে ধীরে ধীরে উঁচু মঞ্চ থেকে সমতলে নেমে এলেন । সাইরেন বাজিয়ে গাড়ি ছুটল ক্ষমতার লাল বাড়ির দিকে নয়, সোজা হাসপাতাল । দেহ আছে, দেহে প্রাণ নেই । ক্ষমতার তকমা ফেলে তিনি চলে গেলেন । যেখান থেকে এসেছিলেন, সেইখানে। ইজটিজম্ সব পড়ে রইল আবর্জনার মত । এসেছিলেন রিক্ত, চলে গেলেন রিক্ত । যেন নিঃশব্দে হালকা একটি বাতাস বয়ে গেল । মানুষের শেষ নিঃশ্বাস ।
II এক II
যমরাজ বসে আছেন সিংহাসনে। এত বছর বয়েস হল, চেহারাটি কিন্তু এতটুকু টসকায় নি। মসৃণ দেহত্বক । উজ্জ্বল দুটি চোখ। যখন হাসেন শুভ্র এক সার দাঁত ঝিলিক মেরে ওঠে, বিদ্যুৎবালার মত । মৃত্যুর খবরে তিনি হাসেন, জন্মের খবরে দীর্ঘশ্বাস মোচন করে বলেন, ‘আবার কাজ বাড়ল হে চিত্রগুপ্ত। ফাইলটা দেখ । ক' দণ্ড পরে তুলে আনতে হবে! কিসে মরবে!' চিত্রগুপ্ত নবজাতকের ভাগ্যলিপি দেখে, সময় বলেন । মৃত্যুর ধরন-ধারণ জানিয়ে দেন । যমরাজ বলেন, ‘একেই আমার কর্মচারীর সংখ্যা কম, কি ভাবে কি হবে বুঝি না । নরকেও তিল ধারণের স্থান নেই । ঢাকনা খুলতেও ভয় করে ।
সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় বিখ্যাত ভারতীয় বাঙালি লেখক। তিনি ১৯৩৬ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহন করেন। মেদিনীপুর জেলা স্কুল থেকে প্রাথমিক শিক্ষা এবং হুগলী কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাগ্রহন করেন । তিনি অনেক উপন্যাস,ছোটগল্প ও প্রবন্ধ রচনা করেছেন । তাঁর সবথেকে বিখ্যাত উপন্যাস লোটাকম্বল যা দেশ পত্রিকায় ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হয়েছিল। তাঁর রচনায় হাস্যরসের সাথে তীব্র শ্লেষ ও ব্যঙ্গ মেশানো থাকে ।ছোটদের জন্য তাঁর লেখাগুলিও খুবই জনপ্রিয় । তাঁর সৃষ্ট ছোটদের চরিত্রের মধ্যে বড়মামা ও ছোটমামা প্রধান ।