ইমরান উজ-জামান লিলুয়া সুন্দরীর পালা নামক বইটি লোকজ সংস্কৃতির এক অমূল্য সম্পদ সংগ্রহ পূর্বক পাঠক সমাজে উপস্থাপন করেছেন। যেখানে গ্রামীণ সভ্যতার একটি চিত্র উপস্থাপিত হয়েছে। গল্পটি সংক্ষেপিতভাবে বলতে গেলে—
এক অনিন্দ্য সুন্দরী কন্যা, নাম তার লিলুয়া সুন্দরী। খুব আদর-যত্নে বড় হয়েছে লিলুয়। মা তাকে মাটিতে রাখেন না, কারণ? পিড়ায় কামড়াবে। মাথায় রাখেন না, উকুনে কামড়াবে। এটি একটি মায়ের গভীরতম ভালোবাসার পথিকৃত। সওদাগর বাবা ও সাত ভাইয়ের আদরের লিলুয়া সুন্দরী বেড়ে ওঠে, গ্রামীণ সভ্যতার আদোলে। যৌবনবতী হয় লিলুয়া। অন্যদিকে লিলুয়া সুন্দরীর রূপে মুগ্ধ হয়ে উজানের সওদাগর মিলম রাজা; ঘরে বৌ রেখে লিলুয়াকে বিয়ের প্রস্তাব পাঠায়। নানা ছল চাতুরি করে রাজা বিয়ে করে লিলুয়াকে। লিলুয়া যখন জানতে পারে রাজা বিবাহিত, তখন বড় দেরি হয়ে গেছে। তিনি বিবাহিত স্বামীর ঘর করে আর মরমে মরে।
মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুর অঞ্চলের মেয়েলি-গীত সাধারণত বিয়ে-সাদি, মুসলমানীসহ নানা সামাজিক অনুষ্ঠানাদিতে গাওয়া হয়। সেই গান সংগ্রহ এবং তার সঙ্গে কাহিনি যুক্ত করে লেখা হয়েছে এই গীতিনাট্য। যার নাম লিলুয়া সুন্দরীর পালা।
পাঠকবৃন্দ বইটি পাঠের মাধ্যমে সামাজিক প্রেক্ষাপট ও গ্রামীণ সভ্যতার নান্দনিকতার পাশাপাশি একজন মানুষের সুখানুভব এবং দুঃখ-কষ্টের অনুভূতিকে উপলব্ধি করতে পারবেন।
আমি আশা করব, লেখকের এমন লোকগানসহ লোকসংস্কৃতির বিভিন্নধারার বিষয়বস্তু সংগ্রহ ও সৃষ্টি চলমানতা অব্যাহত থাকবে। আমি লিলুয়া সুন্দরীর পালা বইটির সমৃদ্ধিসহ লেখকের এমন একটি উদ্যোগের সাদুবাদ জানাচ্ছি।