বিশিষ্ট সমাজ চিন্তক ও সাহিত্যিক এম এ ওয়াজেদের ‘রাস্ট্র সুশাসন ও সমাজ ভাবনা’ শীর্ষক গন্থটি একুশ শতকের সমাজ বাস্তবতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ গ্রন্থ। উপনিবেশিক মনস্কতা যখন এদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে অবদমিত করে রাখে। সব সংগ্রাম ও রক্তদানের তাৎপর্যকে অবসিত হতে দেখি তখন হতাশ হতে হয়। একদিকে সম্প্রসারণবাদী চক্র অন্যদিকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উপনিবেশ তৈরির ষড়যন্ত্র। আরেকদিকে ধর্মান্ধ মৌলবাদী শক্তির বিচক্ষণহীন চিন্তা এবং আন্তর্জাতিক শক্তির ক্রিড়ানক হিসেবে ব্যবহৃত হবার প্রবণতা। সবকিছু মিলিয়ে তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়নকামী দেশগুলো সাম্রাজ্যবাদী শক্তির ক্রিড়ানকে পরিণত হয়। সুশাসনের জন্য যে প্রতিষ্ঠানগুলো দরকার তা তৈরি হয় না। নির্বাচন বরাবরই প্রশ্নবিদ্ধ। নির্বাচন কমিশন কিংবা নির্বাচনকালীন সরকার কেউ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি কিংবা অবৈধ অস্ত্রের দাপটে প্রতিষ্ঠানগুলো অকার্যকর হতে থাকে। ভিআইপি, ভিভিআইপি, সিআইপি এসব তকমায় অভিষিতগণ সুযোগসুবিধা ভোগ করেন। সুতরাং সর্বক্ষেত্রে সামাজিক বৈষম্য বাড়তে থাকে। সুষম বন্টন মুখের বুলিতে রূপান্তরিত হয়। জনগণের মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে থাকে। সুশাসন প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন বইয়ের পৃষ্ঠাতেই থেকে যায়। এম এ ওয়াজেদের সমাজ ভাবনায় এ বিষয়গুলো সুস্পষ্ট। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং চিন্তার মুক্তির আন্দোলন এ দুটোকে সমাজ ভাবনার শক্তিশালী আকর হিসেবে দেখতে হবে।একুশ শতক প্রযুক্তির যুগ। এ আই দখল নিয়েছে মানবিক শ্রম ও চিন্তার সৃজনশীল জায়গা সেখানেও সমাজভাবুকদের সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে নতুন সময়ের রাজনৈতিক শক্তি হবে তরুণরা তাদেরকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। একটা জ্ঞানকেন্দ্রিক সমাজ ছাড়া মুক্তির পথ সীমায়িত। একথাগুলো নানাভাবে বলেছেন এম এ ওয়াজেদ তার ‘রাস্ট্র সুশাসন ও সমাজ ভাবনা’Ñ গ্রন্থে। আমাকে গ্রন্থটি উৎসর্গ করার জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। বইটির বহুল প্রচার প্রত্যাশা করি।
জন্ম : কবি মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াজেদ (লেখক নাম- এম এ ওয়াজেদ) ১৯৭৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর নওগাঁ জেলার সাপাহার উপজেলার জবই গ্রামে এক মধ্যবিত্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পিতার- মো. মকবুল হোসেন, মাতা- মোসা. মরিয়ম বিবি। পড়ালেখা : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় হতে ১৯৯৭ সালে বৃত্তিসহ এলএলবি (অনার্স) এবং ১৯৯৮ সালে এলএলএম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পেশাগত জীবন : বর্তমানে তিনি নিজ জেলা নওগাঁয় অ্যাডভোকেট বার সমিতিতে নিয়মিত অ্যাডভোকেট হিসেবে কর্মরত আছেন। সাহিত্যচর্চা : ছোটবেলা থেকেই তিনি কবিতা, প্রবন্ধ লিখতে থাকেন তবে কবিতাই তার নেশা। ইতোমধ্যেই বেশ কিছু একক গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে, প্রকাশের অপেক্ষায় আছে আরো বেশকিছু গ্রন্থ। ১) আলোকের ঝরনাধারা (কাব্য) ২) অদ্ভুত আঁধার চারদিকে (কাব্য) ৩) প্রভাতের পুষ্পসুবাস (কাব্য) ৪) বেদনার কোষকাব্য (কাব্য) ৫) অভিশংসিত সরোবর (কাব্য) ৬) অন্তর্দহনের শেষ পৃষ্ঠা(কাব্য ) ৭) হে হৈমন্তিকা যুবতী হও (কাব্য ) ৮) আনন্দরজনির আত্মবিস্মৃত উপাখ্যান (কাব্য) ৯) বসন্তঋতুর তৃতীয় মাস (কাব্য) ১০) রাষ্ট্র সুশাসন ও সমাজ ভাবনা (প্রবন্ধ) এছাড়া বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পত্রিকা/জার্নালে তার লেখা নিয়মত প্রকাশিত হচ্ছে।