জন্ম আমার চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার রহনপুর বাজারে। রহনপুরের মানুষ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সদরমূখি নয়। যে কোনও প্রয়োজনে তারা রাজশাহী চলে যায়। কারণ রাজশাহীর সাথে রহনপুরের রেল যোগাযোগ অত্যন্ত চমৎকার। বাস যোগাযোগও বেশ ভাল। আগের দিনেও সরাসরি বিআরটিসি বাস যেত রহনপুর থেকে রাজশাহী। যার কারণে আমরা রহনপুরের মানুষের কাছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সদর অচেনা। তার উপরে আমি রহনপুরের লেখাপড়া শেষ করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হই। এম এ শেষ করেই চাকরিসূত্রে প্রথম থাকার জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরে আসি। এখানে একবছর চাকরি করেই বদলি হয়ে যাই ঝালকাঠি। দীর্ঘ ১৫ বছর সেখানে। যার ফলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার অনেক কিছুই আমার অচেনা থেকে যায়। এমনকি বাংলা একাডেমি থেকে সারা দেশে লোকজ সংস্কৃতির উপর গবেষণা প্রকল্প শুরু হলে আমি ঝালকাঠি জেলার উপরে কাজ করার দায়িত্ব পাই। যার ফলে আরও অধরা থেকে যায় আমার নিজ জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ। দীর্ঘ পনের বছর বাইরে কাটিয়ে যখন নিজ জেলায় বদলি হয়ে আসি, তখনই মনে হল এবার তো জেলার প্রতি আমার দায়িত্ব পালন করতে হয়। আমার অবচেতন মনের এ চেতনা উষ্কে দিয়েছেন আমার প্রিয় স্যার অধ্যাপক অনীক মাহমুদ। কিন্তু সমস্যা বাধে অন্য জায়গায়। আমি জেলার কাউকেই তেমন চিনি না। না লেখক, না সাংবাদিক, না গবেষক, না কবি কাউকেই তেমনভাবে চিনি না। আমার নানা বাড়ি হওয়ার সুবাদে মামা নানাদের, মাযহারুল ইসলাম তরু, যিনি আমার মামা হন বলে তাঁকে চিনি, আর শহীদ সারোয়ার আলোকে চিনি বাংলা বিভাগ অ্যালামনাই থেকে। এছাড়া দুএকজন বন্ধুকে চিনি মাত্র। এ ছাড়া সাহিত্য সংস্কৃতি জগতের সবাই আমার কাছে নতুন; আমি সবার কাছে নতুন। সরকারি গণগ্রন্থাগারে মাসুদ রানার আমন্ত্রণে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত হলে সবাই জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকায়। পরিচিত হতে হয় একেবারে আনকোরা হিসেবে। যার কারণে জেলা সদরের কিছু তথ্য যেগুলো আমার দৃষ্টিগোচর হয়নি কিন্তু উল্লেখ করা খুবই প্রয়োজন ছিল; তার জন্য সদরের অধিবাসীদের কাছ থেকে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।