উপμমণিকা
ইতিহাসের কিছু কিছু মুহূর্ত কোনো নির্দিষ্ট ভূখন্ডে সীমাবদ্ধ থাকে না,
তা ছড়িয়ে পড়ে অনন্ত মহাকালে। চট্টগ্রামের কালুরঘাট এবং সেখানকার
জরাজীর্ণ সেই ট্রান্সমিটারটি ঠিক তেমনই এক ইতিহাসের ধারক। আর এই
ইতিহাসের কেন্দ্রে যিনি দাঁড়িয়ে ছিলেন, তিনি মেজর জিয়াউর রহমান।
১৯৭১ সালের উত্তাল মার্চ। চারদিকে যখন অনিশ্চয়তা আর বারুদগন্ধী
বাতাস, ঠিক তখনই কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল আশার
বাতিঘর। এই বইয়ের উপজীব্য সেই অবিনাশী মুহূর্তগুলো, যখন একজন
ক্সসনিকের কণ্ঠে ধ্বনিত হয়েছিল স্বাধীনতার অমোঘ ঘোষণা। যে ঘোষণাটি
শোনার জন্য চাতক পাখির মতো অপেক্ষায় ছিল সাড়ে সাত কোটি বাঙালি।
কালুরঘাট থেকে ‘আমি মেজর জিয়া বলছি’Ñএই গ্রন্থে আমি ফিরে
তাকাতে চেয়েছি সেই সময়টিতে, যখন ‘উই রিভোল্ট’ বলে এক অকুতোভয়
মেজর রুখে দাঁড়িয়েছিলেন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে।
কালুরঘাটের সেই ছোট্ট বেতার কেন্দ্রটি কীভাবে একটি জাতির জন্মলগ্নের
আঁতুড়ঘরে পরিণত হলো এবং কীভাবে জিয়াউর রহমান সেই μান্তিকালে
জাতিকে দিকনির্দেশনা দিলেন, তা-ই এই গ্রন্থের মূল অন্বেষণ।
এই বই কেবল কোনো ব্যক্তির বন্দনা নয়, বরং এটি একটি সময়ের
দলিল। যে সময়ে কালুরঘাটের প্রতিটি ধূলিকণা সাক্ষী হয়েছিল এক
বিপ্লবের। এখানে উঠে এসেছে যুদ্ধের প্রস্তুতি, চরম অনিশ্চয়তার মাঝে
জিয়ার সেই বজ্রকণ্ঠ এবং পরবর্তী রণাঙ্গনের কথা।
নতুন প্রজন্মের কাছে সেই গে․রবোজ্জ্বল অধ্যায়টি তুলে ধরাই আমার
মূল উদ্দেশ্য। কালুরঘাট কেবল একটি স্থান নয়, আর জিয়াউর রহমান
সেখানে কেবলই একজন ঘোষক ছিলেন নাÑবরং সেই মুহূর্তে তিনি হয়ে
উঠেছিলেন প্রতিরোধ ও সাহসের প্রতীক।
বইটি রচনায় যাঁরা তথ্য দিয়ে, পরামর্শ দিয়ে এবং উৎসাহ দিয়ে পাশে
থেকেছেন, তাঁদের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা। পাঠক যদি এই বইয়ের পাতায়
সেই একাত্তরের বারুদের ঘ্রাণ এবং বিজয়ের প্রথম স্পন্দনটি অনুভব করতে
পারেন, তবেই আমার এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা সার্থক হবে।
জাহাঙ্গীর শিকদার